তীব্র অভিমান
.......................
মাাঝেমাঝে তীব্রতর অভিমানে ক্লান্ত হয়ে পড়ি
মনে হয়— প্রেম কিছু নয়
মনে হয়— ভালোবাসা নেশাখোর পাগলের অনর্থ প্রলাপ
হৃদয়ের সমস্ত জানালা বন্ধ, পড়ে থাকি একা হয়ে
যেনো কোনো বিপন্ন দ্বীপের মধ্যে হারানো হরিণ
গোপন ঝর্ণার মতো চুপিচুপি ঝরে জলকণা
উন্মিলিত স্বপ্নগুলো ভীষণ বিমর্ষ হয়ে উড়ে যায় শীতে ক্লান্ত পাখিদের মতো
সবুজ বৃক্ষ থেকে উড়ে যায় পাতা
নিকট আঙিনাজুড়ে মরে যায় প্রতিবেশি হাওয়া
চোখের আয়না থেকে মুছে যায় ছায়াস্নিগ্ধ বিকেলের ছবি
রাত্রি নিঝুম হলে
আমাদের না-বলা কথার কণ্ঠে বেজে ওঠে বেহালাবেদন
আমাদের আকাঙ্ক্ষার ফুলগুলো ব্যথায় মলিন
ছোট ছোট স্পর্শগুলো সরল শিশুর মতো কান্নাকাতর
কখনো পথের মোড়ে, চলমান রিকশায়, অথবা অন্য কোনোখানে
হয়তোবা দুজনেই দুজনকে দেখে ফেলে সামলাই মুখোমখি দাঁড়াবার লোভ
এ যেনো দেখার মধ্যে আচানক অদেখা ভুবন
দারুণ দহন লেগে পুড়ে যাই ভেতরে ভেতরে
এইভাবে ক্রমশ দূরের দিকে যাই
দূরে গিয়ে বুঝি-
কিছু কিছু অভিমান মূলত অঝোর বৃষ্টিপাত
মনঘরে— মূলত অন্তর্গত প্রেমের সিম্ফনি।
অনিবার্য তুমি আছো
.................................
মূলত বিচ্ছিন্ন নই— একা নই
তুমি আছো বলে জানি— একা হওয়া দুরুহ ব্যাপার
নির্জনে, যখন নিজেকে খুব একা ভেবে
বিষণ্ন মেঘের নদী দুচোখে বসাই
যখন হৃদয়জুড়ে এলোঝড় উঁকিঝুঁকি করে
বই খুলে—
নিজেকে হারিয়ে ফেলে বসে থাকি প্রাণহীন টেবিলের কাছে
কিংবা কখনো—
উদাস পথিক হয়ে নিজেকে নিজের মনে খুঁজে পেরেশান
সেইক্ষণে—
এইসব শূন্যস্থানজুড়ে—
তুমি এসে সঙ্গ দাও
দেহলগ্ন আপন ছায়ার মতো অনিবার্য তুমি থাকো পাশে
তুমি আছো বলে, জানি— একা থাকা দুরুহ ব্যাপার।
তোমার দুচোখ
.......................
তোমার দুচোখ দুই নদী
ভীষণ গভীর আর শান্ত নিরবধি
জল তার স্রোতহীন, দারুণ মুগ্ধকর—কালো
দূর বা নিকটে দেখি—বিস্ময়ে—লাগে তাই ভালো
জানি না সাঁতার—তবু জলে নেমে পড়ি
একটা নদীতে ভাসি—আরটায় ডুবে গিয়ে মরি
তোমার দুচোখ মায়াবন
গহীন গাছালিভরা—অন্ধকার ছলনাপ্রবন
ভেতরে নানানরূপী পাতাদের স্নিগ্ধ ওড়াউড়ি
দেখে দেখে ভ্রম হয়—চোখেও কি থাকে কোনো ঘুড়ি?
হঠাৎ পাখির মতো পথ ভুলে ঢুকি মায়াবনে
মনভোলা শিশু হয়ে খেলা করি প্রাণগ্রাহী সবুজের সনে
তোমার দুচোখ দুটো তারা
দুহাত বাড়ালে পাই আলোকরশ্মিময় সাড়া
প্রেমপুষ্ঠ পৃথিবীতে গোপন ঠিকানা খুঁজে নিয়ে
তারা দুটো জ্বলে নেভে, নিদাঘ আকাশে উঁকি দিয়ে
আমাকেও ডাকে খুব সঙ্গোপনে— ইশারাভাষায়
সহস্র জনম নিয়ে আমিও অধির থাকি বিপুল আশায়
তোমার দুচোখ যেনো শুধু চোখ নয়
আমাার গোপন মৃত্যু, শাশ্বত আশ্রয়।
শারীরিক চোখ
........................
আমাকে দেখতে এসে সমস্ত শরীর চেয়ে থাকে
গোপনে সহস্র চোখ সারাক্ষণ করে কানাকানি
আমার দুঃখগুলো—কান্নার ব্যথাগুলো নিরবে লুকায়
তোমার শরীরচোখ আলো ফেলে ধরে সব ফাঁকি
কীভাবে লুকাই বল মনোব্যথা— নানান অসুখ?
তুমি যে তাকিয়ে থাকো চতুর্ভেদ আয়নার মতো
শরীরে শরীর খোঁজে পরষ্পর বেদনার ভাষা
তোমার শরীর বুঝি সংখ্যাতীত চোখ দিয়ে ঠাসা?
লেখাটি শেয়ার করুন