চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসন বেশ ঘটা করে প্রতি বছরই কাজী নজরুল ইসলামের জয়ন্তী পালন করে আসছে। আপাতদৃষ্টিতে এটি খুবই ভালো কাজ। অন্তত এটির মাধ্যমে জেলার জনসাধারণের কাছে নজরুলকে তুলে ধরা হচ্ছে। যদিও নজরুল বাঙালির হৃদয়ে এতটা ওপরে আছেন যে তাকে আর ওপরে তুলে ধরার কিছু নেই। সুতরাং একে বলা যায় সাহিত্যের আমলাতান্ত্রিকতা। সাহিত্যে আমলাতান্ত্রিকতা মোটেও ভালো কাজ নয়। প্রশাসন যখন রঙিন সাজে ঢোল পিটিয়ে নজরুলকে উদযাপন করছে, জেলার জীবিত কবিরা তখন বিবর্ণ পোশাকে ফ্যাকাশে চেহারায় বাস্তবতায় অপদস্ত। জীবিত থাকাকালীন নজরুল ইসলামও অপদস্ত ছিলেন বাস্তবতার কাছে। প্রশাসকদের এতে তেমন কিছু যায়-এসে-না। যায় আসলে, নজরুল ইসলামের মতো প্রতিভাকে হয়তো ওতটা অপদস্ত হতে হতো না জীবিতাবস্থায়। রাষ্ট্র, আজীবনই জীবিত কবিদের চেয়ে মৃত কবিদের নিয়ে টানাটানি করে থাকে। রাষ্ট্রের নোটবুকে মৃত কবিদের জন্ম মৃত্যু দিবস লেখা থাকে, অথচ জীবিত কবিদের নামটাও তারা ঠিকঠাক জানে না। আমি হলফ করে বলতে পারি, আমার জেলায় কজন কবি আছে বা তাদের নাম কী, প্রশাসনের গোয়েন্দা বিভাগও তা বলতে পারবে না।
একটি কবিতায় আমি লিখেছিলাম—
যে শহরের পথে একজন কবি হাঁটেন
যে শহরের রাস্তার দু'ধারে ফুল চাষের জন্য
প্রশাসনের বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন।
আমার খুব ইচ্ছে হয়, কবিতাটি প্রিন্ট করে জেলা প্রশাসক অফিসের দেয়ালে আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিয়ে আসতে। এতে যদি অফিসে আসা-যাওয়ার পথে কবিতাটি তাদের চোখে পড়ে, তাতে অন্তত প্রশাসকদের কবিতা পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে। যদিও আমলারা কবিতা বোঝেন কিনা তাতে আমার ভীষণ সন্দেহ আছে।